নিত্যসঙ্গী টয়লেট পেপারের এই ৫ কিস্‌সা জানেন?

টয়লেট পেপার

আধুনিক শৌচাগারে টয়লেট পেপার অপরিহার্য। প্রতিদিনের সঙ্গী এ হেন প্রয়োজনীয় পণ্য সম্পর্কে জেনে রাখুন ৫টি আশ্চর্যজনক তথ্য, যার খবর অনেকেই রাখেন না।

১) টয়লেট পেপারের আবিষ্কর্তা: বিশ্বে প্রথম কাগজ তৈরি হয় চিনে। স্বাভাবিক কারণে শৌচকর্মে ব্যবহার করার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় কাগজও সে দেশেই সৃষ্টি হয়। ইতিহাস বলছে, ষষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে চিনে টয়লেট পেপার ব্যবহার করার রীতি চালু ছিল। এর পরে চতুর্দশ শতকে মিং বংশের শাসনকালে চিনের রাজ প্রাসাদে এই কাগজের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়। ১৩৯৩ সালে শুধুমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বছরে ৭,২০,০০০ টুকরো টয়লেট পেপার দরকার হত। প্রতিটি টুকরোর মাপ ছিল ৬০ সেমি X ৯০ সেমি।

২) সৌখিন সমাচার: বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চল সাদা টয়লেট পেপারের। তুলনায় বিরল হলেও হাল্কা গোলাপি আর চাঁপা রঙের টয়লেট পেপারও কিছু কিছু বাজারে পাওয়া যায়। শৌচালয়ে ব্যবহারের জন্য ভিজে ভিজে সুগন্ধী কাগজেরও অভাব নেই। কিন্তু টয়লেট বিলাসিরা শুধু এতেই খুশি নন। অরণ্যপ্রেমীদের জন্য রয়েছে জঙ্গলে ব্যবহারের জন্য ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টেড টয়লেট রোল, টয়লেটে বসে সুডোকুর নেশায় মজতে চাইলে পাবেন খেলার ছক ছাপানো টয়লেট পেপার। আবার আঁধার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে অপরিহার্য গ্লোইং টয়লেট পেপার, যা নিকষ অন্ধকারেও জ্বলজ্বল করবে। বেশি দাম দিয়ে সেই সমস্ত বিশেষ টয়লেট পেপার কেনার লোকের অভাব নেই।

৩) বিশ্বের বৃহত্তম টয়লেট রোল: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টয়লেট পেপার রোলটি তৈরি করে আমেরিকার সংস্থা ‘চার্মিন’। বিশ্ব টয়লেট পেপার দিবস উদযাপনের জন্যই তৈরি হয়েছিল এই বিশেষ কাগজের রোল। মোট ১০ লক্ষ বর্গফিট টয়লেট পেপার দিয়ে রোলটি প্রস্তুত করা হয়। অর্থাত্‍ সাধারণ মাপের ৯৫,০০০টি টয়লেট পেপারের সমান ছিল সেই রোল।

৪) বিয়ের পোশাকেও টয়লেট পেপার: চমকে উঠবেন না, টয়লেট পেপার দিয়ে চোখ-ধাঁধানো বিয়ের পোশাক তৈরি করে তাক লাগিয়েছেন বিশ্বের বহু নামজাদা ডিজাইনার। শুধু ফ্যাশন র‌্যাম্পেই নয়, এমন পোশাক পরে বাস্তবে বিয়ে সেরেছেন বেশ কিছু সুন্দরী। এমনকি, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে টয়লেট পেপারে তৈরি সেরা বিয়ের পোশাক বাছাইয়ের জন্য প্রতি বছর প্রতিযোগিতার আয়োজনও হয় সাড়ম্বরে।

৫) মহাকাশে টয়লেট পেপার: শুধু মর্ত্যবাসীরাই নন, টয়লেট পেপার ছাড়া অচল মহাকাশচারীদের জীবনযাপনও। মহাকাশযান বা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের ভিতরে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মাধ্যাকর্ষণের তীব্রতা খুবই কম। এই কারণে শৌচাগারের বর্জ্য পরিষ্কার করতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে সেখানেও টয়লেট পেপার ব্যবহার না করে থাকতে পারেন না বিজ্ঞানীরা। ব্যবহৃত সেই সমস্ত টয়লেট পেপার মুখবন্ধ পাত্রে সংরক্ষিত থাকে। পৃথিবীতে ফিরে আসার পরে তা বিনষ্ট করা হয়।

আরও পড়ুনঃ আর্মেনিয়ার এই জেলার নাম ‘বাংলাদেশ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 4 =